আমার দেখা একটি কাল্পনিক স্বপ্ন
(বানানে ত্রুটি হতে পারে তাই ক্ষমা করবেন)
ঘুমের মধ্যে স্বপ্ন টপ্ন আমি খুব একটা দেখিনা তবে যে স্বপ্ন একবার দেখি সেটা কখনো ভুলিনা। ঠিক তেমনি গতকাল একটা স্বপ্ন দেখলাম, আর এটা ছিল আমার জীবনের সব থেকে ভয়ঙ্কর স্বপ্ন গুলোর মধ্যে অন্যতম।
আমি রোজ রাত্রে একটু দেরি করেই ঘুমোই , একটু গান শুনি, নিউজ দেখি তারপর। আর গতকাল ও সেটার ব্যতিক্রম ঘটেনি। আর এই স্বপ্নে আমার একটি বন্ধুর মুখ বাদে আর সবার মুখ আমার অচেনা ছিল এবং এই স্বপ্নের মধ্যে কারো সাথে তেমন ইন্ট্রোডাক্সন হয়নি যাইহোক চলুন সেই স্বপ্নে চলে যাওয়া যাক,
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার এক বহু পুরোনো স্কুল ফ্রেন্ড হঠাৎ আমায় ডাকতে এসেছে এবং সে আমার কাছে এসে বলে নাকি পুরুলিয়া তে তার দুঃসম্পর্কের কোনো আত্মীয় থাকে এবং তাদের বাড়িতে নাকি আগামীকাল পূজো এবং সেই পুজোয় জোড়া পাঠাবলি হয় প্রত্যেকবার তাই সে নিমন্ত্রিত এবং সে তার সাথে আমায় ও সেখানে নিয়ে যেতে চায়। তো এই কথা শোনার সাথে সাথে হঠাৎ তার এক কথায় আমি রাজি হয়ে গেলাম এবং বাগ গুছিয়ে সকালেই বেরিয়ে পড়লাম।
পুরুলিয়া পৌঁছতে পৌঁছতে সন্ধ্যে হয়ে গেল, আর পৌঁছেই দেখি বিরাট এক জমিদার বাড়ি এবং সেই বাড়ি লাগোয়া একটা বিশাল পুকুরও আছে যেটা প্রায় 25 থেকে 30 ফুট উচ্চতা যুক্ত মোটা পাঁচিল দিয়ে ঘেরা।
যাইহোক পৌঁছেই দেখলাম সবাই আমাদের জন্যই অপেক্ষা করছিল এবং আমরা পৌঁছতেই সবাই বেশ খুশি হলো এবং আমাদের দিকে এক দৃষ্টে তাকাতে লাগলো। ঠিক তখনই দেখলাম সে বাড়ির মস্ত বড় বারান্দায় সবাই বসে গল্প করছেন এবং তাদের মাঝেই একটি বড় আরাম কেদারায় বসে আছেন এই বাড়ির কর্তা।
এই বাড়িতে অনেক মানুষ বসবাস করেন এবং তাদেরই মধ্যে এক মধ্যবয়স্ক ভদ্রমহিলা আমাদের দিকে এগিয়ে এসে বললেন যে "এসো তোমাদের জন্য উপরের দক্ষিণ দিকে একটা ঘর পরিষ্কার করে রেখেছি তোমরা হাত মুখ ধুয়ে খাবার খেয়ে বিশ্রাম নাও, আগামীকাল বাড়িতে পূজো আছে তাড়াতাড়ি উঠতে হবে" এই বলে তিনি চলে গেলেন। তারপর আমরা রাত্রের খাওয়া সেরে বিশ্রাম নিতে লাগলাম, এবং সেই ঘরের জানলা দিয়ে দেখলাম বাড়ির প্রায় চারপাশেই মাঠ যেটা আসার সময় খেয়ালই করিনি , আরেকটা কথা বলে রাখি এই বাড়িটিতে তিরিশের ও বেশি ঘর আছে এবং এই বাড়িতে প্রায় 15 থেকে 20 জন বসবাস করেন এবং তারা একটু সেকেলে টাইপের।
এখানে আসার পর দেখেছিলাম বাড়ির যিনি কর্তা তেনার বয়স 65 বছর।
যাইহোক সেদিন ঘুমিয়ে পড়লাম , বাইরে ঝড় হচ্ছিল এবং বেশ ঠাণ্ডা হাওয়া বইছিল, ঠিক যেমনটা আমার স্কুলফ্রেন্ড বলেছিল যে যেদিন এই বাড়িতে পূজো হয় এবং পুজোর আগেরদিন এই গ্রামে একটু ঝড় বৃষ্টি হয়।
যাইহোক,
পরেরদিন সকালে ঘুম ভাঙ্গলো ঢাকের শব্দে, তখন বাজে 7 টা। সবাই রেডি হচ্ছে পুজোর জন্য, এবং বলে রাখি এই পূজো সম্বন্ধে আমি কিছুই জানিনা তবে আমার বন্ধু বলেছিল যে পুকুরের সাথেই লাগোয়া একটি বড় ঘর আছে সে ঘরেই পূজো এবং পাঠা বলি দুটোই হয় আর সে ঘরের দুই দিকে দুটো দরজা(একটা বাড়ির ভিতরের দিকে আরেকটা পুকুরের দিকে) আর সেই দরজাই পুকুরে নামার একমাত্র রাস্তা এবং সেই ঘরের দরজা সারা বছর বন্ধ থাকে আর পুকুরের দিকে বাড়ির যেটুকু অংশ আছে সেটাতে কোনো রকম দরজা জানলা কিছুই নেই এবং সেই ঘরে শুধু মাত্র সেই পরিবারের লোকজনই প্রবেশ করতে পারে তাছাড়া আর অন্য কারো প্রবেশের অনুমতি নেই।
বাড়ির চারপাশে মাঠের ভিতর দিয়েই কিছুটা গেলেই গ্রামের আর সব বাড়ি গুলো দেখা যাবে।
আমি রিয়েল লাইফে এবং এই স্বপ্নের ভিতরেও পুকুরে স্নান করতে খুব ভালবাসি, ভালো সাঁতার জানি। কিন্তু কিছুতেই সেই পুকুর দেখতে পাচ্ছিলাম না, সে যেন চীনের প্রাচীর (আল্ট্রা প্রো ম্যাক্স) দেওয়া আর উপরে কালো মেঘে ঢেকেছে পুরো বাড়িটা।
এবার চলে আসি সেই মুহূর্তে যখন বেলা 12 টায় পুজোর জন্য সেই ঘর খোলা হচ্ছিল এবং বাড়ির লোকজন ঘরটির মধ্যে প্রবেশ করে দরজা দিয়ে দিল। তারপর তাদের পরিবারেরই একজন সেই ঘরের মধ্যে ঢাক বাজাতে লাগলো এবং পূজো শুরু হলো।
দেখতে দেখতে কেটে গেল 2 ঘণ্টা, তখনও ঘর বন্ধই আছে, হঠাৎ প্রচন্ড ঝড় উঠতে লাগলো আর সাথে তেমনি জোরে বিদ্যুৎ চমকাতে লাগলো এবং তখনই হঠাৎ বাড়ির লোক গুলো সেই ঘরের দরজা খুলে বেরিয়ে এসে তাড়াতাড়ি ঘরটি তালা বন্ধ করে দিলেন, তখন আমি তাদের মুখে একটা ভয়ের ছাপ অনুভব করেছিলাম।
আমি যে কোনো পশু হত্যা এবং বলির বিরুদ্ধে এবং আমি ভেজিটেরিয়ান তবে আমি শুনেছিলাম যে পুজোয় বলির জিনিস(পাঠা) রান্নার পর প্রসাদ হিসেবে গ্রহণ করতে হয় কিন্তু সেদিন দেখলাম নিরামিষ খাবার হয়েছিল আর পাঠাগুলো সেই ঘরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের আর দেখিনি।
তারপর দুপুরের খাওয়া দাওয়া সেরে আবার সেই ঘরে ঘুমোতে চলে গেলাম এবং দুপুরে একটা ভাতঘুম দিলাম। তারপর ঘুম থেকে উঠে দেখি সন্ধ্যে হয়ে গেছে আর ইতিমধ্যে আমার বন্ধু আমায় ডেকে বলে " কিরে ছাদে যাবি??" ছাদে গেলে পুকুরটা দেখতে পাবি। " আর এই কথা শুনে বললাম হ্যাঁ নিশ্চই যাবো"
আমার এই বন্ধু আমায় বলছিলো এই বিশাল পুকুরটা নাকি পাতালের সাথে মিশে আছে , এবং আগে এই পুকুরে যারা নেমেছে তাদের আর কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি আর সে জন্যই এই পুকুরের চারপাশে বড় মোটা দেওয়াল করে দেওয়া হয়েছে যাতে কেউ ওই পুকুরে নামতে না পারে।
যাইহোক আমরা ছাদের দিকে এগোতেই এই বাড়ির সেই মধ্যবয়সী ভদ্রমহিলা বলে উঠলেন "তোরা যেন ছাদে উঠিস না ছাদে ওঠা মানা আছে"। তখন ওনার কথার উপর আর কিছু না বলে ঘরে ফিরে গেলাম তবে পরে যখন বাড়ির সবাই নিচের বারান্দায় বসে গল্পে মত্ত ছিল তখন লোকচক্ষুর আড়ালে আমি একাই ছাদে উঠলাম আমার বন্ধুর বারণ সত্ত্বেও।
এবং উঠে আমি সেই পুকুরের দিকেই এগোলাম , এবং উপর থেকে দেখলাম পুকুরের চারপাশে কুয়াশা মত হয়ে আছে ঠিক বোঝা যাচ্ছে না কিছু তবে যেটুকু দৃষ্টিগোচর হলো দেখলাম বিশাল সেই পুকুরের জলের মধ্যে কিছু যেন নড়াচড়া করছে আর তার সাথে পুকুরের জলগুলো সমুদ্রের ঢেউয়ের মত গিয়ে আঁচড়ে পড়ছে দেওয়ালে এবং এই দৃশ্য দেখতে দেখতেই পিছন থেকে আমার সে বন্ধু এসে টেনে আমায় ঘরে নিয়ে গেল। কিন্তু আমার মনে একটা প্রশ্ন থেকেই গেল যে ওই পুকুরে এমন কি আছে যেটা জলের মধ্যে চলা ফেরা করলেও ঢেউয়ের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ভাবতে ভাবতেই রাত্রে খাবার সময় হয়ে গেল এবং রাত্রে খেতে বসে আমি সেই মাঝ বয়সী মহিলা কে জিজ্ঞেস করলাম যে "মাসিমা ওই পুকুরের পারের ঘরটা বন্ধ থাকে কেন এবং কি আছে ওই পুকুরে ??" এই প্রশ্ন শুনে তিনি একটু হেসে বললেন যে "এই পুকুরে অগাধ জল আর সে কারণে কোনো দুর্ঘটনা যেন না ঘটে সে জন্য ওই ঘর বন্ধ থাকে" এই উত্তর শুনে আমি আর কিছু বললাম না।
তারপর খাওয়া সেরে ঘুমোতে চলে গেলাম।
যখন ঠিক মাঝ রাত তখন হঠাৎই ঘুম ভেঙে গেল এবং ফোনে তখন দেখি 12 টা, আর অনুভব করলাম বাথরুম ও পেয়েছে খুব, তাই আমি আমার মোবাইলের টর্চ জ্বালিয়ে বাথরুমের দিকে এগোতে লাগলাম, এই বাড়িতে অনেকগুলো বাথরুম আর সব বাথরুমই নিচে এবং সেটা নিচের বারান্দা হয়ে যেতে হয় যাইহোক আমি বাথরুম সেরে ঘরের দিকে ফিরছিলাম হঠাৎ দেখলাম এই বাড়ির কর্তা যে চেয়ারে বসেন সেটার উপর একটা চাবি পড়ে আছে হয়তো গল্প করতে করতে তার পকেট থেকে পড়ে গেছে, তারপর চাবি টা হাতে নিয়ে দেখি সেটা আমার হাতের তালুর সমান।
তারপর চাবি টা নিয়ে ভাবতে থাকলাম "এটাই কি সেই পুকুরপাড়ের ঘরের চাবি ??" এবং এটা ভাবতে ভাবতেই আমি সেই ঘরের দিকে এগোতে লাগলাম , এবং সে ঘরের সামনে যেতেই দেখি একটা অনেক বড় পুরোনো সময়ের তালা ঝুলছে এবং আমি এই চাবি দিয়ে ফোনের আলোয় সেই তালা খোলার চেষ্টা করতেই তালা খুলে যায়, এবং আমি সেই ঘরে প্রবেশ করতেই দেখি ঘরের এক দিকে এক বিরাট কালো অদ্ভুৎ মূর্তি আর সেটা কিসের মূর্তি সেটা বুঝতে বাকি রইলো না, আর এটাও বুঝতে বাকি রইলো না যে এই মূর্তিটাই আজ দুপুরে পূজো হয়েছিল।
ফোনের আলোয় ঘরের চারদিক দেখতে দেখতেই দেখি মূর্তির পাশের দেয়ালে একটা বড় চাবি ঝুলছে আর মূর্তির অপর দিকেই আরেকটা লোহার দরজা, যেটা খুললেই পুকুরটা দেখতে পাবো, তাই আমি আর দেরি না করে সে তালা খোলার জন্য এগোলাম,তখনও অনবরত ঝড় জল হয়েই যাচ্ছিল সাথে বিদ্যুৎ ও চমকাচ্ছিল।
আর এই সবের মধ্যে আমি চাবি ঘোরাতেই তালা খুলে গেল তারপর আমি আস্তে আস্তে সেই দরজা খুললাম এবং দেখলাম একদম কুয়াশার মত কোনো একটা জিনিস পুকুরের চারদিক ঘিরে ধরে আছে এবং সে পুকুরের জল একদম কালো, পুকুর টা অনেক বড় তাই আমার ফোনের আলোয় কিছু স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছিলাম না ঠিক তখনই একবার বিদ্যুৎ চমকালো আর সেই আলোয় আমি যা দেখলাম সেটা দেখে আমার আর সেখান থেকে নড়ার বা মুখে আওয়াজ করার শক্তি অবশিষ্ঠ থাকলো না, দেখলাম দুটি বিশাল বড়, হাটির থেকেও চার গুণ বড় শাপ আমার দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে এবং তাদের গায়ের রং ঠিক যেন টাইট্যানোবোয়ার মতো, আর সেই সময় পুকুরের জল যেন তোলপাড় করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ছে দেওয়াল গুলোর দিকে, সে যে কি ভয়ঙ্কর দৃশ্য সেটা চোঁখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায়না।
ব্যাস তারপর হঠাৎই আমার ঘুম ভেংগে যায়, এবং ঘুম ভাঙ্গার পর অনেকক্ষণ ফ্রিজ হয়ে ছিলাম এবং তখনও মনের আতঙ্ক কাটছিল না। আর হ্যাঁ সেই কালো মূর্তিটার মুখটা ছিল সাপের মত কিন্তু তার হাতপা ও ছিল। আর হ্যাঁ এই যে স্বপ্নের ব্যাপারে বললাম এতে লজিক খুঁজতে যাবেন না কারণ স্বপ্নে লজিক কাজ করে না।
(আপনারা চাইলে নিজের কোনো ভয়ঙ্কর স্বপ্নের অভিজ্ঞতাও আমায় জানাতে পারেন কমেন্টে)