u/Aware_Television_814

সরকারের কয়েক মাসের কাজ দেখে একজন সাধারণ নাগরিকের কিছু প্রশ্ন

সরকারের কয়েক মাসের কাজ দেখে একজন সাধারণ নাগরিকের কিছু প্রশ্ন

সরকারের কয়েক মাসের কাজ দেখে একজন সাধারণ নাগরিকের কিছু প্রশ্ন

আমি সরকারের প্রতিটি উদ্যোগকে খারাপ বলতে চাই না। কিছু উদ্যোগের উদ্দেশ্য ভালো, কিছু উদ্যোগ অবশ্যই দরকার। কিন্তু একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার মনে হয়, সরকারের সাফল্য মাপার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো মানুষের দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবে কতটা পরিবর্তন এসেছে, সেটি দেখা।

কারণ একজন সাধারণ মানুষের কাছে উন্নয়ন মানে শুধু বড় ঘোষণা নয়। একজন বাবা বাজার থেকে কতটুকু বাজার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন, একজন কৃষক ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারছেন কি না, একজন তরুণ চাকরি পাচ্ছেন কি না, একজন শিক্ষার্থী বাস্তব দক্ষতা অর্জন করছে কি না এবং একজন প্রবাসী নিরাপদে বিদেশে কাজ করতে পারছেন কি না, এসবই তার কাছে রাষ্ট্রের বাস্তব চিত্র।

বাংলাদেশে বেকারত্বের সংখ্যাটিও ছোট নয়। BBS-এর ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী দেশে প্রায় ২৬.২ লাখ মানুষ বেকার, যার মধ্যে প্রায় ২০ লাখ তরুণ। আবার আন্তর্জাতিকভাবে ব্যবহৃত ১৯তম ICLS পদ্ধতিতে হিসাব করলে বেকারত্বের হার আরও বেশি, প্রায় ৫.৯%, এবং যুব বেকারত্ব প্রায় ১৭.৭% পর্যন্ত দাঁড়ায়।

অর্থাৎ শুধু মানুষকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া নয়, মানুষের নিজের আয়ের সুযোগ তৈরি করাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বড় সামাজিক নিরাপত্তা।

Family Card: সাহায্য দরকার, কিন্তু কাঠামোটাও দেখতে হবে

দরিদ্র পরিবারকে সরাসরি সাহায্য করা অবশ্যই মানবিক। এমন পরিবার আছে, যাদের জন্য মাসে ২,৫০০ টাকাও অনেক বড় সহায়তা। Family Card-এর প্রথম পর্যায়ে ৩৭,৫৬৭ জন নারীকে মাসে ২,৫০০ টাকা করে দেওয়া শুরু হয়েছে।

কিন্তু এখানে আমার প্রশ্ন Family Card-এর বিরুদ্ধে নয়। প্রশ্ন হলো, এই কর্মসূচির মোট ব্যবস্থাপনা ব্যয়, গবেষণা, ডেটা সংগ্রহ, যাচাই এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর তুলনায় প্রকৃত দরিদ্র মানুষের কাছে কত টাকা পৌঁছাচ্ছে?

কারণ Family Card শুধু নগদ সহায়তা নয়, সরকার এটিকে একটি ডেটাবেসভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা প্ল্যাটফর্ম হিসেবে তৈরি করতে চাইছে।

এ ধরনের ব্যবস্থা তৈরি করতে গবেষণা অবশ্যই দরকার। কিন্তু গবেষণারও মূল্যায়ন দরকার। যদি কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে বিশাল ডেটাবেস তৈরি করা হয়, অথচ প্রকৃত দরিদ্র পরিবার বাদ পড়ে এবং অপেক্ষাকৃত কম দরিদ্র পরিবার সুবিধা পায়, তাহলে সেই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন করা অন্যায় নয়।

আমার কাছে প্রশ্নটা হওয়া উচিত:

প্রতি ১০০ টাকা সরকারি ব্যয়ের মধ্যে কত টাকা সরাসরি দরিদ্র মানুষের হাতে যাচ্ছে এবং কত টাকা ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে যাচ্ছে?

আর যদি একজন মানুষকে মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া যায়, তাহলে একই সঙ্গে এমন কর্মসংস্থান তৈরি করা কি বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়, যেখানে সেই মানুষটি নিজেই মাসে ২০, ৩০ বা ৪০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন?

সহায়তা দরকার, কিন্তু সক্ষমতা তৈরি আরও দরকার।

বাজারদর ও মূল্যস্ফীতি

বাংলাদেশের মানুষের সবচেয়ে বড় দৈনন্দিন সমস্যাগুলোর একটি হলো বাজারদর।

২০২৬ সালের মার্চে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৭১% বলে BBS-এর তথ্য দেখায়।

মূল্যস্ফীতি কমলেও আগের বাড়তি দাম তো মানুষের জীবন থেকে মুছে যায় না। একবার চাল, ডাল, তেল, সবজি, ওষুধ বা পরিবহন খরচ বেড়ে গেলে মানুষের আয় একই গতিতে না বাড়লে বাস্তবে তার জীবনযাত্রা কঠিনই থাকে।

তাই আমার প্রশ্ন হলো, মানুষকে Family Card দেওয়ার পাশাপাশি যদি বাজারের কাঠামোগত সমস্যা সমাধান করে পণ্যের দাম কমানো যায়, তাহলে সেটি কি আরও ব্যাপকভাবে মানুষের উপকার করবে না?

একটি পরিবারকে মাসে ২,৫০০ টাকা দেওয়া একটি পরিবারের সমস্যা কিছুটা কমাতে পারে। কিন্তু বাজারে যদি প্রতিদিনের খরচ ২,৫০০ টাকা কমানো যায়, তাহলে তার সুবিধা শুধু Family Card পাওয়া পরিবার নয়, দেশের কোটি কোটি মানুষই পাবে।

কৃষকের অবস্থা: ধানের দাম কমছে, উৎপাদন খরচ বাড়ছে

বাংলাদেশের কৃষকের কথা বাদ দিয়ে অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করলে সেটি অসম্পূর্ণ থেকে যায়।

২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা প্রতি মণ ধান ৭০০–৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। গত মৌসুমে একই ধরনের ধানের দাম ছিল প্রায় ৮০০ টাকা।

অন্যদিকে কিছু অঞ্চলে বাজারে ধানের দাম ১৫–২০% পর্যন্ত এক সপ্তাহেই কমে কেজিপ্রতি ৪২–৪৬ টাকা হয়েছে।

অর্থাৎ কৃষক যখন বাজারে ধান বিক্রি করছেন, তখন দাম কমছে। কিন্তু তার উৎপাদন খরচ কমছে না।

USDA-এর ২০২৬ সালের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বোরো মৌসুমে প্রায় ৪৯ লাখ হেক্টর জমিতে চাষ এবং প্রায় ২.০২ কোটি টন উৎপাদনের পূর্বাভাস ছিল। বোরো বাংলাদেশের মোট বার্ষিক ধান উৎপাদনের প্রায় ৫৫% জোগান দেয়। একই প্রতিবেদনে সার ও সেচের সমস্যাকে উৎপাদন কমার ঝুঁকি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এখানে প্রশ্ন খুব সহজ:

কৃষক যদি কম দামে ধান বিক্রি করেন কিন্তু বেশি খরচে উৎপাদন করেন, তাহলে আগামী বছর তিনি কীভাবে আবার চাষ করবেন?

সরকার ২০২৬ সালের বোরো মৌসুমে ৫ লাখ টন ধান ৩৬ টাকা/কেজি, ১২ লাখ টন সিদ্ধ চাল ৪৯ টাকা/কেজি দরে সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

কিন্তু সরকারি সংগ্রহের পরিমাণ কি দেশের সব কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য যথেষ্ট?

সারের দাম: কাগজের দাম আর বাস্তব দাম

সরকারি নির্ধারিত দামে ইউরিয়া ও TSP-এর মূল্য ২৭ টাকা/কেজি, DAP ২১ টাকা/কেজি এবং MOP ২০ টাকা/কেজি।

কিন্তু সরবরাহ সংকটের সময় কিছু এলাকায় কৃষককে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ১০–১২ টাকা বেশি প্রতি কেজি পর্যন্ত দিতে হয়েছে। এমনকি ১,০৫০ টাকার DAP-এর বস্তা ১,৬৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রির অভিযোগও এসেছে।

এখানে একটা বিষয় খুব গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি কাগজে সার ২১ টাকা লেখা থাকলেই কৃষকের কাছে সেটি ২১ টাকা নয়।

কৃষক বাস্তবে কত দামে কিনছেন, সেটিই আসল।

ধানের দাম কম, সার ও উৎপাদন খরচ বেশি। এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে কৃষক যদি লোকসান করেন, তাহলে শুধু খাদ্য উৎপাদনের কথা বলে তাকে ধরে রাখা সম্ভব নয়।

প্রবাসী কর্মসংস্থান: শুধু বিদেশে পাঠানো নয়, দক্ষ করে পাঠানো দরকার

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের অবদান বিশাল। শুধু ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই বাংলাদেশে প্রবাসী আয় এসেছে প্রায় ২.৮৬ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ প্রায় ৩৫,২৪৯ কোটি টাকা।

তাই সরকার বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়াতে আগ্রহী হওয়াটা স্বাভাবিক। আগামী পাঁচ বছরে ১ কোটি মানুষের বিদেশে কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও ঘোষণা করা হয়েছে।

কিন্তু এখানেই আমার সবচেয়ে বড় প্রশ্ন:

আমরা কি শুধু মানুষকে বিদেশে পাঠাতে চাই, নাকি দক্ষ মানুষ হিসেবে বিদেশে পাঠাতে চাই?

সরকারের পক্ষ থেকে ১১০টি প্রতিষ্ঠানে ৫৫টি ট্রেডে প্রশিক্ষণের কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রশিক্ষণের কোনো উদ্যোগ নেই, এমন বলা ঠিক হবে না।

কিন্তু একজন মানুষ বিদেশে যাওয়ার জন্য যদি জমি বিক্রি করেন, ঋণ করেন, পরিবারের সঞ্চয় শেষ করেন, তারপর বিদেশে গিয়ে প্রত্যাশিত চাকরি বা বেতন না পান, তাহলে সেই বিদেশযাত্রা তার পরিবারের জন্য বিশাল ঝুঁকি।

২০২৬ সালে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের চাকরি হারানো, বেতন না পাওয়া ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার খবরও এসেছে।

তাই বিদেশে পাঠানোর সংখ্যা দিয়ে সাফল্য মাপা উচিত নয়।

আমাদের জানতে হবে:

কতজন দক্ষ হয়ে যাচ্ছে?

কতজন আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সার্টিফিকেট পাচ্ছে?

কতজন তাদের দক্ষতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ চাকরি পাচ্ছে?

কতজন প্রতিশ্রুত বেতন পাচ্ছে?

কতজন প্রতারণার শিকার হচ্ছে?

কতজন নিরাপদ কর্মপরিবেশ পাচ্ছে?

একজন বাংলাদেশি শ্রমিক বিদেশে গিয়ে কত টাকা পাঠালেন, সেটি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো তিনি কী অবস্থায় সেই টাকা উপার্জন করছেন।

শিক্ষা: নকল বন্ধ করাই কি শিক্ষার সংস্কার?

নকল বন্ধ করা অবশ্যই দরকার। কিন্তু বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার মূল সমস্যা কি শুধু নকল?

মুখস্থনির্ভরতা, পরীক্ষাকেন্দ্রিক শিক্ষা, বাস্তব দক্ষতার ঘাটতি, গবেষণার সীমাবদ্ধতা এবং শিক্ষা শেষ করার পর কর্মসংস্থানের সঙ্গে শিক্ষার দুর্বল সম্পর্ক, এগুলোও বড় সমস্যা।

একজন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় নকল করতে পারল না, কিন্তু সে যদি পুরো বই মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস করে বাস্তব জীবনে কোনো দক্ষতা অর্জন না করে, তাহলে আমরা আসলে কতটা শিক্ষা সংস্কার করলাম?

নকল প্রতিরোধ দরকার, কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু নকলমুক্ত পরীক্ষা নয়।

গাছ লাগানো ভালো, কিন্তু গাছ বাঁচানো আরও গুরুত্বপূর্ণ

পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে আমি সমর্থন করি।

সরকার আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য নিয়েছে। ২০২৬ সালের জন্য প্রায় ৫ কোটি ১৪ লাখ ৮৮ হাজার ৯৩০টি চারা লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এটা নিঃসন্দেহে বড় উদ্যোগ।

কিন্তু আমার প্রশ্ন:

২৫ কোটি চারা লাগানোর পর পাঁচ বছর পরে কতটি গাছ থাকবে?

কারণ একটি চারা লাগানো একটি সংখ্যা তৈরি করে।

কিন্তু একটি গাছকে পাঁচ বছর বাঁচিয়ে রাখা তৈরি করে একটি বাস্তব পরিবেশগত সম্পদ।

তাই শুধু “কতটি চারা লাগানো হয়েছে” নয়, আমাদের হিসাব হওয়া উচিত:

কতটি বেঁচে আছে?

কতটি মারা গেছে?

প্রতি গাছের রোপণ ও পরিচর্যা খরচ কত?

কোথায় লাগানো হয়েছে?

পরবর্তী পাঁচ বছর কে পরিচর্যা করবে?

এবং একই সঙ্গে কারখানার বর্জ্য, নদী-খাল দূষণ, প্লাস্টিক এবং শহরের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাও ঠিক করতে হবে।

একদিকে ২৫ কোটি গাছ লাগাব, অন্যদিকে কারখানার বর্জ্য নদীতে যাবে এবং শহরের পাশে বর্জ্যের পাহাড় তৈরি হবে, তাহলে পরিবেশ রক্ষার কাজটি অর্ধেকই থেকে যাবে।

শেষ কথা

আমার কাছে সরকারের সাফল্য শুধু কতগুলো Family Card দেওয়া হয়েছে, কতজনকে বিদেশে পাঠানো হয়েছে, কতটি গাছ লাগানো হয়েছে বা কতগুলো অভিযান হয়েছে, তা দিয়ে মাপা উচিত নয়।

আমরা বরং দেখতে চাই:

২৬.২ লাখ বেকার মানুষের সংখ্যা কমেছে কি না।

প্রায় ২০ লাখ তরুণ বেকারের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে কি না।

মূল্যস্ফীতি ৮.৭১% থেকে আরও কমে মানুষের বাস্তব জীবন সহজ হয়েছে কি না।

ধানের দাম ৭০০–৭৫০ টাকা/মণ থেকে কৃষকের জন্য ন্যায্য পর্যায়ে উঠেছে কি না।

সার সরকার নির্ধারিত ২০–২৭ টাকা/কেজির দামে কৃষকের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না।

বিদেশে যাওয়া শ্রমিকরা শুধু সংখ্যা হিসেবে নয়, দক্ষ ও নিরাপদ কর্মী হিসেবে যাচ্ছে কি না।

Family Card-এর ২,৫০০ টাকা সত্যিই সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারের হাতে পৌঁছাচ্ছে কি না।

২৫ কোটি গাছের মধ্যে বাস্তবে কত শতাংশ বেঁচে থাকছে।

এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ,

মানুষের নিজের আয় করার ক্ষমতা বাড়ছে কি না।

আমি কোনো দলকে শুধু সমর্থন বা বিরোধিতা করার জন্য এসব প্রশ্ন করছি না। সরকার যে দলেরই হোক, রাষ্ট্রের শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত মানুষের জীবনকে সহজ করা।

একজন কৃষক যেন ধান বিক্রি করে উৎপাদন খরচ তুলতে পারেন।

একজন তরুণ যেন চাকরি পাওয়ার জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা না করেন।

একজন শ্রমিক যেন বিদেশে যাওয়ার জন্য নিজের জমি বিক্রি করে প্রতারণার শিকার না হন।

একজন শিক্ষার্থী যেন শুধু মুখস্থ করে পরীক্ষায় পাস না করে, বাস্তব জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়।

একটি দরিদ্র পরিবার যেন প্রয়োজনে সরকারি সহায়তা পায়, কিন্তু একই সঙ্গে এমন সুযোগও পায় যাতে কয়েক বছর পর আর সেই সহায়তার প্রয়োজন না হয়।

আমার কাছে উন্নয়নের আসল অর্থ হলো মানুষের ওপর রাষ্ট্রের নির্ভরতা বাড়ানো নয়, মানুষের নিজের সক্ষমতা বাড়ানো।

Family Card দরকার হতে পারে। সামাজিক নিরাপত্তা দরকার। গাছ লাগানো দরকার। বিদেশে কর্মসংস্থান দরকার। কৃষককে সহায়তা দরকার।

কিন্তু সবকিছুর শেষ লক্ষ্য হওয়া উচিত একটাই:

মানুষ যেন নিজের পরিশ্রম, দক্ষতা ও আয়ের মাধ্যমে সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে।

কারণ একটি ভালো রাষ্ট্র শুধু মানুষকে সাহায্য করে না।

একটি ভালো রাষ্ট্র এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে মানুষকে বারবার সাহায্য চাইতে হয় না।

ধর্মীয় আবেগকে কি ভিউয়ের ব্যবসায় পরিণত করছে সংবাদমাধ্যম?

ধর্মীয় আবেগকে কি ভিউয়ের ব্যবসায় পরিণত করা হচ্ছে?

বাংলাদেশের কিছু প্রধান সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল-মিডিয়া অ্যাকাউন্টে X/Facebook-এর তথ্য যথাযথ যাচাই না করেই ধর্মীয় আবেগনির্ভর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ দেখা যায়।

কখনো thumbnail, ছবি ও sensational headline এমনভাবে তৈরি করা হয়, যা মূল সংবাদের অর্থই বদলে দেয়।

আরও উদ্বেগের বিষয়, বিভিন্ন fact-checking সংস্থা ইতোমধ্যে এমন অনেক ধর্মীয় ও সাম্প্রদায়িক দাবিকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর প্রমাণ করেছে। তারপরও একই ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়াই আবার ছড়িয়ে পড়ে।

ইরান বা আফগানিস্তানকে অতিরঞ্জিতভাবে আদর্শায়িত করার মতো একপাক্ষিক উপস্থাপনাও বাস্তবতাকে বিকৃত করতে পারে।

আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নই। ধর্মীয় বিশ্বাসকে সম্মান করি বলেই মনে করি, ধর্মকে ভিউ ও ব্যবসার হাতিয়ার বানানো উচিত নয়।

Emotion is not evidence.