u/mahmud06

ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড!

ল্যাঞ্জা ইজ ভেরি ডিফিকাল্ট টু হাইড!

Bangladesh whitewashed Pakistan in ODIs and Tests. After losing the series in test yesterday, the activists and intellectuals of Jamaat as well as Pak lover no longer hide their tails.

As soon as they lost, they started writing in favor of their beloved country Pakistan and troll the country where they live in. I don't understand why they don't consider this country their own? And also this guy didn't stop trolling Liton Das, Mushfiq too.

You can support Pakistan or India, but would you support them even if they were playing against your own country?

u/mahmud06 — 23 hours ago

টিকার বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৫টি চিঠি দেয় ইউনিসেফ, ১০টি বৈঠকে করে সতর্ক!

ইউনিসেফ অন্তর্বর্তী সরকারের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে লেখা অন্তত পাঁচটি চিঠিতে সম্ভাব্য টিকা–সংকটের কথা বলে সতর্ক করেছিল। তারা ১০টি মিটিংয়ে সরকারের কর্মকর্তাদের কাছে একই কথা জানিয়েছিল। ইউনিসেফ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার টিকা ক্রয়প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন আনায় দেশে সময়মতো টিকা আসেনি।

আজ বুধবার দুপুরে ইউনিসেফ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। তিনি বলেন, ভালো খরব হচ্ছে, ১ কোটি ৮০ লাখের বেশি শিশু হামের টিকা পেয়েছে। হাম নিয়ন্ত্রণে। বর্তমানে পরিস্থিতির উন্নতি হতে শুরু করেছে বলে জানিয়েছে ইউনিসেফ।

সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশ ১৭.৮ মিলিয়ন ডোজ হামের টিকা পেয়েছে, যা দেশের মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। বাংলাদেশে প্রতি বছর প্রায় ৭০ মিলিয়ন ডোজ টিকার প্রয়োজন হয়, কিন্তু পর্যাপ্ত সরবরাহের অভাবে রুটিন টিকাদান কর্মসূচি দীর্ঘ সময় ধরে ব্যাহত হয়েছে। রুটিন টিকাদান কর্মসূচিতে এই দীর্ঘস্থায়ী বিঘ্নের কারণে অনেক শিশু টিকা ছাড়াই থেকে যায়। যা দেশে হাম সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয় এবং শেষ পর্যন্ত বড় আকারের প্রাদুর্ভাবের সৃষ্টি করে।

এই সংকট কোনো অর্থ বা তহবিলের অভাবের কারণে হয়নি উল্লেখ করে ইউনিসেফ জানিয়েছে, ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

টিকার সংকট ও হামে শিশুমৃত্যুর ঘটনা তদন্তে সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানান রানা ফ্লাওয়ার্স। ইউনিসেফ তদন্তে সহায়তা করবে কি না, এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের উত্তরে ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘ইউনিসেফ সব সময় সত্যের পক্ষে।’

u/mahmud06 — 1 day ago

Jamaat hypocrisy!

Jamaat MP candidate Faizul Haque unable to debate well with Meghna Alam, who has recently joined politics.

u/mahmud06 — 2 days ago

তিস্তা প্রকল্প পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে, যুক্ত হবে পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা

যৌথ নদী কমিশনের (জেআরসি) উপদেষ্টা হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তিস্তা মেগা প্রকল্প নিয়ে আলোচনায় মূল প্রশ্ন ছিল—শুধু বন্যা ও নদী ভাঙন নিয়ন্ত্রণ নয়, শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহারের জন্য পানি সংরক্ষণের ব্যবস্থাও থাকতে হবে।’

দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি পানি সংকট মোকাবিলায় তিস্তা মেগা প্রকল্প নতুন করে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। 

তিনি বলেন, 'বন্যা ও নদীভাঙন নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এবার প্রকল্পে পানি সংরক্ষণের কার্যকর ব্যবস্থা যুক্ত করা হবে।'

তিনি বলেন, 'বর্তমানে প্রকল্পে তিস্তা নদীর প্রস্থ প্রায় ৮০০ মিটারের মধ্যে সীমিত রাখা, ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে গভীরতা বৃদ্ধি এবং নদীতীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ মূলত বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও নদী ভাঙন প্রতিরোধকেন্দ্রিক।'

জাহেদ উর রহমান বলেন, 'তিস্তা অববাহিকায় নদী ভাঙন যেমন বড় সমস্যা, তেমনি বন্যাও একটি বড় চ্যালেঞ্জ। কিন্তু প্রকল্পে পদ্মা ব্যারাজের মতো পানি সংরক্ষণের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। অথচ শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানির তীব্র সংকট দেখা দেয়।'

তিনি আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী যথার্থভাবেই প্রশ্ন তুলেছেন—যদি পদ্মা ব্যারাজে বর্ষাকালে পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যায়, তাহলে তিস্তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা কেন থাকবে না?'

জাহেদ উর রহমান বলেন, 'এ কারণে তিস্তা মেগা প্রকল্পে পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের নতুন ব্যবস্থা যুক্ত করে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা হচ্ছে।'

তিনি বলেন, 'এ কারণেই কিছুটা সময় লাগছে। তবে আমরা আশা করি, জনগণ বুঝতে পারবেন—দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কল্যাণে আরও কার্যকর ও সমন্বিত একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই এই পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।'

u/mahmud06 — 2 days ago

হারাম গানকে কালেমা পড়ে হালাল বানাতে চায় আবু উবায়দা!

u/mahmud06 — 3 days ago

শাহ আলী মাজারে হামলা: ভিডিও ফুটেজ দেখে জামায়াতের ৩ কর্মী গ্রেপ্তার

রাজধানীর মিরপুরের ঐতিহ্যবাহী শাহ আলী মাজারে জিয়ারতকারী ও ভক্তদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় নয়জনকে সুনির্দিষ্ট নামীয় এবং আরও ১০০-১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় এখন পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— শেখ মো. সাজ্জাদুল হক রাসেল (৩৮), মো. আজম (৪০) এবং মো. আরমান দেওয়ান (২৯)। শনিবার (১৬ মে, ২০২৬) রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই তিনজনকে হামলায় সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে এবং মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয়ের বিষয়ে ওসি জানান, প্রাথমিকভাবে তারা জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মী বলে জানতে পেরেছেন।

u/mahmud06 — 5 days ago

জামায়াত নেতার বাড়িতে মিলল খাদ্য অধিদপ্তরের ৯৯ বস্তা চাল!

নোয়াখালীর সুবর্ণচরে জামায়াতে ইসলামীর নেতার বাড়ি থেকে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলযুক্ত ৯৯ বস্তা চাল জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন। আজ শনিবার দুপুরে চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড ঈমান আলী বাজার–সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

ওই জামায়াত নেতার নাম আবদুস সামাদ। তিনি চরজব্বর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের জামায়াতের সভাপতি। তাঁর দাবি, চালগুলো লক্ষ্মীপুরের তিনটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে তাঁর ভাই কিনেছিলেন। তবে প্রশাসন বলছে, সরকারি চাল কেনাবেচার কোনো সুযোগ নেই।

বিস্তারিত - https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/2fo6ugz0lt

u/mahmud06 — 6 days ago

২৬ জেলার পানিসংকট নিরসনে ৩৩ হাজার কোটি টাকার পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অনুমোদন

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে সরকার বড় উদ্যোগ নিয়েছে। ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প’ নামে একটি মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচটি নদী ব্যবস্থা পুনর্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশের প্রধান নদী ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার আগ্রাসন হ্রাস, সেচ সুবিধা সম্প্রসারণ ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প গ্রহণ করেছে সরকার।

আজ বুধবার সচিবালয়ের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। একনেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভায় সভাপতিত্ব করেন।

পরিকল্পনা কমিশনের সুপারিশে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। শতভাগ সরকারি অর্থায়নে জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে।

একনেক সভা শেষে পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘এটি জাতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প। এর মাধ্যমে দেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা ও প্রায় ৭ কোটি মানুষ উপকৃত হবে।’

Source - https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-490206

u/mahmud06 — 9 days ago

গোয়েন্দা কার্যালয় থেকে ওয়েস্টিন: যেভাবে এসআইবিএল দখল করেন এস আলম!

চারপাশে নিস্তব্ধতা। ভোরের ফিকে আলো পড়ছে রাস্তায়। ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর ফজরের নামাজের পর আব্দুর রহমান প্রতিদিনের মতোই সকালে হাঁটার জন্য বারিধারা ডিওএইচএস মসজিদ থেকে বের হন।

পায়জামা ও টি-শার্ট পরে অন্য দিনগুলোর মতো একই পথ ধরে তিনি হাঁটতে থাকেন। তার থেকে কয়েক ফুট দূরেই একটি সাদা মাইক্রোবাস এসে থামে। কোনো নম্বর প্লেট নেই। গাড়িটি থেকে দুজন নেমে তার পেছনে চলতে থাকে। আব্দুর রহমান কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই মাইক্রোবাসটি থেকে আরও দুজন নেমে তার পথ আটকে দাঁড়ান। সবারই শারীরিক গড়ন ছিল শক্তপোক্ত। তারা আব্দুর রহমানকে গাড়িটিতে উঠতে বলেন।

সদ্যবিলুপ্ত সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের (এসআইবিএল) স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুর রহমান গাড়িতে উঠতে রাজি না হলে চারজন তাকে ঘিরে ধরে জোর করে তাকে মাইক্রোবাসে তুলে নেন।

প্রায় একই সময়ে এই ঘটনাস্থলের ১০ কিলোমিটার দূরে উত্তরা এলাকায় হুমায়ুন কবিরের বাড়ির সামনে একটি কালো গাড়ি থামে। তৎকালীন এসআইবিএল বোর্ড সচিব হুমায়ুন কবির তখন গোসল করছিলেন। বাড়ির দরজায় দ্রুত কড়া নাড়ার শব্দ শুনতে পান তিনি। বাথরুমের দরজার বাইরে থেকে তার স্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসনের লোকজন এসেছে, তোমাকে খুঁজছে..।’

হুমায়ুন কবির এসে দেখেন, সাদা-পোশাকে চার-পাঁচজন দাঁড়িয়ে আছেন। তারা নিজেদের একটি গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য বলে পরিচয় দেন এবং তাদের সঙ্গে হুমায়ুন কবিরকে যেতে বলেন।

সেইদিনের ঘটনা স্মরণ করে হুমায়ুন কবির জানান, তারা তাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে চাইলে তার স্ত্রী আপত্তি করেন। লোকগুলো হুমায়ুন কবিরের স্ত্রীকে একদিকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে এবং হুমকি দিয়ে তাকে জোর করে নিজেদের গাড়িতে তুলে নেন।

ওদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতরে কিছুক্ষণের মধ্যেই আব্দুর রহমান বুঝতে পারেন তিনি কোথায় আছেন এবং তাকে বহনকারী গাড়িটি একটি গোয়েন্দা সংস্থার। অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের ভেতরে কচুক্ষেত এলাকার একটি বড় অফিস কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

দ্য ডেইলি স্টারকে আব্দুর রহমান বলেন, ‘আমার জীবনের সবচেয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতা হয়েছিল সেদিন। আমার কাছে মোবাইলটাও ছিল না। পরিবারকেও কিছু জানাতে পারছিলাম না। আমার স্ত্রী ও মেয়েরা হাসপাতাল থেকে থানা সব জায়গায় আমাকে খুঁজেছে।’

আব্দুর রহমানের মতোই হুমায়ুন কবিরকেও একই গোয়েন্দা কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছিল। তবে শুধু তারা দুজনই নন, তাদের মতো আরও অনেকে ছিলেন সেখানে।

সেদিন সকালে আব্দুর রহমান ও হুমায়ুন কবিরসহ এসআইবিএলের আটজন কর্মকর্তা ও পরিচালককে রাজধানীর বারিধারা, উত্তরা, মিরপুর, গুলশান, জিগাতলা, মগবাজার, বনানী ও তেজকুনিপাড়া থেকে তুলে নেওয়া হয়। তাদের কেউ সকালে হাঁটতে বের হয়েছিলেন, কেউ বাসায় কোরআন তেলাওয়াত করছিলেন, কেউ গোসল করছিলেন, আবার কেউ সন্তানদের স্কুলে নিয়ে যাচ্ছিলেন।

বাকি ছয়জন হলেন তৎকালীন এসআইবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদ হোসেন, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুল হক, পরিচালক হাকিম ইউসুফ হারুন ভূঁইয়া, পরিচালক আবুল বাশার ভূঁইয়া এবং স্বতন্ত্র পরিচালক মঈনুল হাসান ও এএফএম আসাদুজ্জামান।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা হওয়ায় এসআইবিএলের তৎকালীন চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ রেজাউল হককে জোর করে তুলে নেওয়া হয়নি। বরং ওই গোয়েন্দা সংস্থার তৎকালীন প্রধান মেজর জেনারেল মো. সাইফুল আবেদীন তাকে কল করে দেখা করতে বলেন।

সিনেমার মতো এমন গোয়েন্দা অভিযানের পর প্রথমবারের মতো দ্য ডেইলি স্টারের সঙ্গে একান্তে কথা বলেছেন আব্দুর রহমান, হুমায়ুন কবির, রেজাউল হক, শহীদ হোসেন ও আবুল বাশার ভূঁইয়া। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ভিডিও ও মোবাইলে সাক্ষাৎকারে তারা বিস্তারিতভাবে জানান, কীভাবে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তায় এসআইবিএল দখল করেন এস আলম।

ঘটনার দিন সকালে তারা নয়জনই ঢাকার মতিঝিলের সিটি সেন্টারে এসআইবিএলের ৪০৪তম বোর্ড সভায় অংশ নেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সভাটি হওয়ার কথা ছিল দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে। কিন্তু তাদেরকে কচুক্ষেতে নিয়ে আটকে রাখা হয় আলাদা আলাদা কক্ষে। কেউই জানতেন না যে অন্যরাও সেখানে আছেন। এটাও জানতেন না যে ওই গোয়েন্দা কার্যালয়ের ভেতরেই তাদের পরিচালনাধীন ব্যাংকটি দখলের প্রক্রিয়া চলছে।

এর কয়েক মাসের মধ্যেই এসআইবিএলের নতুন বোর্ড এস আলম ও তার পরিবারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায় বিপুল পরিমাণ ঋণ দিতে শুরু করে। এর ফলে একসময় স্থিতিশীল এই ব্যাংকে তারল্য সংকট দেখা দেয়।

২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর নাগাদ এসআইবিএলের মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৮৪১ কোটি টাকায়। এর মধ্যে ৭ হাজার ৬০০ কোটি টাকা গেছে এস আলম গ্রুপ ও তাদের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে। ওই সময় ব্যাংকটির খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকায়। এটা ছিল ব্যাংকটির মোট বিতরণ করা ঋণের ৬২ দশমিক ৩ শতাংশ। ব্যাংকটির মূলধনও ঋণাত্মক হয়ে যায়।

শেষ পর্যন্ত এই ঋণ বিতরণের বেপরোয়া প্রবণতাই এসআইবিএলকে নগদ অর্থের সংকটে ফেলে এবং ২০২৫ সালে আরও চারটি দুর্বল ব্যাংকের সঙ্গে একীভূত করা হয়।

গোয়েন্দা কার্যালয়ে এস আলম

গোয়েন্দা কার্যালয়ে তুলে আনার পর সবার জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু, আতঙ্কে তাদের বেশিরভাগই কিছুই খেতে পারেননি। অনেকে অসুস্থও হয়ে পড়েন।

আব্দুর রহমান সেদিনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমার রক্তচাপ বেড়ে গেলে একজন ডাক্তার ডাকা হয়। সেই ডাক্তার পরামর্শ দেন, আমাকে যেন বাসায় পাঠানো হয়। কিন্তু তারা সেটা করেনি। আমাকে সেখানেই একটি বিছানায় শুতে দেওয়া হয়।’

ভবনের অন্য একটি অংশে বোর্ড সচিব হুমায়ুন কবিরকে যে কনফারেন্স রুমে নেওয়া হয়, যেখানে ডিজিএফআইয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ছবি ঝোলানো ছিল। ওই রুমে তিনি এমন একজনকে দেখতে পান, যাকে সেখানে দেখার কথা তিনি ভাবতেও পারেননি। সেই ব্যক্তি ছিলেন চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম। এস আলম সেখানে এমনভাবে বসে ছিলেন, যেন তিনিই সেখানে কর্তা।

তুলে আনা আট কর্মকর্তা ও পরিচালকের মধ্যে ছয়জন দ্য ডেইলি স্টারকে নিশ্চিত করেছেন, তারা সেদিন ওই গোয়েন্দা কার্যালয়ে এস আলমকে দেখেছেন।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি তো তাকে দেখে হতভম্ব। তিনি আমাকে বসতে বললেন। তারপর সেদিনের বোর্ড সভা মতিঝিলে না করে ওয়েস্টিন হোটেলে করতে বললেন।’

এস আলম তিনটি নথি তুলে দেন হুমায়ুন কবিরের হাতে। সেখানে ছিল ব্যাংকের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের সই করা পদত্যাগপত্র।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘পদত্যাগপত্রগুলো দেখে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়লো। যারা আমাকে উদ্ধার করবে বলে মনে করছিলাম, তারাই পদত্যাগ করেছেন। আমার আর কী করার ছিল?’

তিনি জানান, তাদের সই নেওয়া হয়েছিল সাদা কাগজে। পরে ‘ব্যক্তিগত কারণ’ দেখিয়ে পদত্যাগপত্র হিসেবে সেটা প্রস্তুত করা হয়।

দ্য ডেইলি স্টার এমন দুটি পদত্যাগপত্রের অনুলিপি সংগ্রহ করেছে।

এস আলমের নির্দেশে সেদিনের বোর্ড সভা সিটি সেন্টারের বদলে হোটেল ওয়েস্টিনে হবে বলে নোটিশ জারি করেন হুমায়ুন কবির।

মেজর (অব.) রেজাউল হক দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘পুলিশি রিমান্ডের হুমকি দিয়ে আমাকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। আমারই এক জুনিয়র কর্মকর্তা আমাকে অস্ত্র দেখিয়ে বলেছিল, তারা আমাকে হেফাজতে নেবে।’

এই ঘটনার মাত্র কয়েক মাস আগে ২০১৭ সালের ৫ জানুয়ারি দেশের অন্যতম বৃহৎ ইসলামী ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেয় এস আলম গ্রুপ। সেই একই কৌশলেই দখল করা হচ্ছিল এসআইবিএল।

যেভাবে দখল করা হয়

এই দখল প্রক্রিয়া-সংক্রান্ত অধিকাংশ নথি তৈরি করেছিলেন আব্দুর রহমান। তুলে আনা স্বতন্ত্র পরিচালক আব্দুর রহমান নন, এই আব্দুর রহমান ব্যাংকটির বোর্ড সচিবালয়ের এক জুনিয়র কর্মকর্তা। তাকে এসআইবিএলের মতিঝিল অফিস থেকে তুলে আনা হয়েছিল। ডিজিএফআইয়ের কার্যালয়ে বসে পদত্যাগপত্র খসড়া তৈরি; বোর্ড মিটিংয়ের কার্যবিবরণী প্রস্তুত; চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগের ‘অনুমোদন’ নথিভুক্ত এবং তাদের বদলে নতুন নিয়োগের নথি তৈরি করতে তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

বর্তমানে বেঙ্গল কমার্শিয়াল ব্যাংকে কর্মরত আব্দুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘গোয়েন্দা কার্যালয়ে বসে আমাকে বোর্ডের এসব কার্যবিবরণী লিখতে বলা হয়েছিল।’

ওই কার্যালয়েই আটটি প্রস্তাব খসড়া ও অনুমোদন করা হয় এবং হুমায়ুন কবিরকে জোর করে সেগুলোতে সই করানো হয়। সেখানে চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানের পদত্যাগ, তাদের বদলে নতুন নিয়োগ এবং কোম্পানি সচিবের বদলির নথিও ছিল।

মেজর (অব.) রেজাউল হকের জায়গায় ব্যাংকটির চেয়ারম্যান করা হয় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফকে। এস আলমের জামাতা বেলাল আহমেদ নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মো. আনিসুল হকের স্থলাভিষিক্ত হন এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের তৎকালীন অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী ওসমান আলীকে নতুন এমডি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

হুমায়ুন কবিরকে সরিয়ে তার জায়গায় কোম্পানি সচিব করা হয় আব্দুল হান্নান খানকে। আব্দুল হান্নান আগে আল-আরাফাহ, ইউনিয়ন ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের কোম্পানি সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

আব্দুল হান্নান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আব্দুস সামাদ লাবু (এস আলমের ভাই) আমাকে ওই (গোয়েন্দা) অফিসে যেতে বলেন। আমি ভয়ে রাজি হয়ে যাই। ভেবেছিলাম, না গেলে হয়তো চাকরি চলে যাবে কিংবা পদোন্নতি আর হবে না।’

ওয়েস্টিনে ছিল কেবল আনুষ্ঠানিকতা

মতিঝিলের প্রধান কার্যালয় থেকে ওয়েস্টিন হোটেলে স্থানান্তর করা সেই বোর্ড সভা দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়। আসলে এই সভা ছিল নিছকই আনুষ্ঠানিকতা।

সাধারণত বোর্ড সভা যেখানে তিন থেকে চার ঘণ্টাব্যাপী হয়ে থাকে, সেখানে এই সভা শেষ হয় মাত্র ৩০ মিনিটে। চেয়ারম্যান, এমডি ও নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যানকে ইতোমধ্যে সরিয়ে দিয়ে নিজ নিজ বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন এসআইবিএলের তৎকালীন ভাইস চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান।

সেদিনের বিষয়ে জানতে সাইদুর রহমানকে দ্য ডেইলি স্টার একাধিক কল ও ম্যাসেজ দিলেও তিনি জবাব দেননি।

সভায় উপস্থিত ছয় কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্য জানান, ওই বৈঠকে বোর্ডের সামনে নিজের পরিচয় দেন এস আলম। এরপর আগে থেকেই প্রস্তুত করে রাখা কার্যবিবরণী উপস্থাপন করা হয়।

দ্য ডেইলি স্টারের হাতে আসা নথি থেকে দেখা যায়, সভার নোটিশে ৩৬টি এজেন্ডা ছিল। কিন্তু, সেখানে মাত্র তিনটি অনুমোদিত হয় এবং বাকিগুলো স্থগিত রাখা হয়। তবে ‘বিবিধ’ অংশে একসঙ্গে ১৪টি প্রস্তাব পাস করা হয়। এর সবই ছিল পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ সংক্রান্ত প্রস্তাব।

অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের সাবেক এমডি ও সিইও আনিস এ খান বলেন, ‘যখন একটি ব্যাংকের বোর্ড সভায় প্রায় সব এজেন্ডা স্থগিত রাখা হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত অনুমোদন দেওয়া হয় বিবিধ আলোচনায়, তখন আর সেটাকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলার সুযোগ থাকে না। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।’

তিনি বলেন, ‘যেহেতু অনুমোদিত ১৪টি বিষয়ের মধ্যে পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগ ছিল, তাই এটি স্পষ্টভাবে একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত এবং সুশাসনের বড় ঘাটতি হিসেবে স্পষ্ট।’

তিনি আরও বলেন, ‘করপোরেট সুশাসনের এমন ঘাটতির কারণেই আজ অনেক ব্যাংকের এমন দুরবস্থা।’

সেদিন সকালে ডিজিএফআই তুলে নিয়ে যাওয়ার কারণে কোনো পরিচালকই বোর্ড সভার জন্য যথাযথ পোশাকে ছিলেন না। তারা বাড়িতে পরার মতো সাধারণ পোশাকেই ছিলেন। অথচ কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাদের জন্য যথাযথ মাপের স্যুট, শার্ট, টাই, বেল্ট, মোজা ও জুতা হাজির করা হয়েছিল। বোর্ড সভায় যোগ দিতে ওয়েস্টিনে নেওয়ার আগে প্রত্যেক পরিচালককেই ফরমাল পোশাক পরানো হয়।

সেই বোর্ড সভা শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও তাদের ভয় কাটেনি। পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে আব্দুর রহমানসহ সাতজন পরিচালক একসঙ্গে পদত্যাগ করেন।

আব্দুর রহমান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘ওই সভার পর আমাদের ফোন করে হুমকি দেওয়া হয়, পদত্যাগ না করলে খারাপ হবে। ভয়ে আমরা সবাই একসঙ্গে পদত্যাগ করি।’

ওয়েস্টিনের এক সূত্র টেলিফোনে দ্য ডেইলি স্টারকে জানায়, বোর্ড সভার জন্য হোটেলের ওই কক্ষ বুক করেছিল গোয়েন্দা সংস্থাই।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তড়িঘড়ি অনুমোদন

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকও এই জোরপূর্বক ব্যাংক দখলের ঘটনার বৈধতা দিতে বাড়তি তৎপরতা দেখিয়েছে। এসআইবিএল বোর্ড সচিবালয়ের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান ঘটনার দিন বিকেল ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে যান গোয়েন্দা কার্যালয়ে হওয়া নতুন নিয়োগের অনুমোদন নিতে। তার সঙ্গে ছিলেন ইসলামী ব্যাংকের কোম্পানি সচিব জেকিউএম হাবিবুল্লাহ ও ডিজিএফআইয়ের দুই কর্মকর্তা।

তৎকালীন গভর্নর ফজলে কবির অর্থ মন্ত্রণালয়ে একটি বৈঠকে ছিলেন। আব্দুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা গভর্নরের ব্যক্তিগত সচিবকে বলেন, ‘গভর্নরকে ফোন করে বলুন, আমি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এসেছি।’ কিছুক্ষণের মধ্যেই গভর্নর সেখানে চলে আসেন।

স্বাভাবিক নিয়মে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং নিয়ন্ত্রণ ও নীতি বিভাগ (বিআরপিডি) এসব নিয়োগ যাচাই করে। তারা সিআইবি প্রতিবেদন, চলমান মামলা ও কোনো অভিযোগ থাকলে তা যাচাই করতে নূন্যতম এক সপ্তাহ সময় নেয়। অনেক ক্ষেত্রে আরও বেশি সময় প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেদিন সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করে রাত ৯টার মধ্যে এসআইবিএলের নতুন চেয়ারম্যান, নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগ অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক।

দ্য ডেইলি স্টার এর মধ্যে দুটি অনুমোদনপত্র সংগ্রহ করেছে। তার একটিতে আনোয়ারুল আজিম আরিফকে চেয়ারম্যান এবং অন্যটিতে বেলাল আহমেদকে পরিচালক হিসেবে নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

সেদিন রাতে আবু ফারাহ মো. নাসেরের নেতৃত্বে বিআরপিডির একটি দল নিয়মিত অফিস সময়ের পরও থেকে যান এবং এই পুরো অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। আবু ফারাহ মো. নাসের পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ও উপদেষ্টা হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি পদত্যাগ করেন।

যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল নম্বরটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

সাবেক গভর্নর ফজলে কবির লিখিত জবাবে দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকে দায়িত্ব পালনকালে আমি সবসময় চেষ্টা করেছি একই দিনে ফাইল নিষ্পত্তি করতে। মাগরিবের নামাজের পর ফাইল দেখা শুরু করতাম এবং রাত ৮টা বা ৯টার দিকে অফিস থেকে বের হতাম।’

তিনি বলেন, ‘দিনের অন্যান্য ফাইলের সঙ্গে এটি আমার টেবিলে আসার আগে এসআইবিএলের নতুন পরিচালক ও এমডির অনুমোদন সম্পর্কে আমার ধারণা ছিল না।’

পরিস্থিতি তৈরি

২০১৭ সালের শুরু থেকেই দেশের অন্যতম শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী ইউনাইটেড গ্রুপ এসআইবিএল ব্যাংকের শেয়ার কেনা শুরু করে। আট মাসের মধ্যে ১৩টি কোম্পানির মাধ্যমে তারা ব্যাংকটির ২৪ দশমিক ২০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়।

এটি ছিল ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১-এর ১৪(ক)(১) ধারার স্পষ্ট লঙ্ঘন। সেখানে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা যৌথভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষের মালিকানা ১০ শতাংশের বেশি হবে না।

এসআইবিএলের তৎকালীন কোম্পানি সচিব হুমায়ুন কবির আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনিয়মের বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে জানান। ২০১৭ সালের মার্চের মধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইউনাইটেড গ্রুপের আগ্রাসী শেয়ার কেনা নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়।

পরবর্তীতে আইনি জটিলতার কারণে গ্রুপটি সরে যায় এবং তাদের কেনা শেয়ার ব্লক মার্কেটের মাধ্যমে এস আলম গ্রুপের কাছে বিক্রি করা হয়। এই ঘটনা পুঁজিবাজারে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে।

ব্লক মার্কেট লেনদেন হলো বড় পরিসরে শেয়ার ক্রয়-বিক্রয়, যা নিয়মিত বাজারের বাইরে করা হয়। এই পদ্ধতিতে ক্রেতা ও বিক্রেতা আগেই মূল্য, পরিমাণ ও সময় নির্ধারণ করে নেন, যাতে শেয়ারবাজারে দরের ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব না পড়ে।

শেয়ারবাজারের তথ্য অনুযায়ী, এসআইবিএলের স্পনসর পরিচালকরা শেয়ার বিক্রির কোনো প্রকাশ্য ঘোষণা না দিলেও ব্লক মার্কেটে লেনদেন বেড়ে যায়। এর ফলে কয়েক মাসের মধ্যে ব্যাংকটির শেয়ারের দাম ১২ টাকা থেকে বেড়ে ৩৪ টাকায় পৌঁছে যায়।

ইউনাইটেড গ্রুপের পাশাপাশি এস আলম গ্রুপ ১৪টি নতুন গঠিত কোম্পানির মাধ্যমে ব্যাংকটির প্রায় ৩৭ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। বিষয়টি সেই সময় জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে উঠে আসে। মালিকানা সংক্রান্ত নথিতে দেখা যায়, এই ১৪টি কোম্পানিই এস আলম, তার পরিবারের সদস্য ও ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের নিয়ন্ত্রণে ছিল। শুরুতে এসব কোম্পানির নিবন্ধিত ঠিকানা ছিল ঢাকার দিলকুশা আল-আমিন সেন্টার এবং চট্টগ্রামের আসাদগঞ্জে এস আলম ভবন। পরে সব ঠিকানাই চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে ওই ঠিকানাগুলোতে কোনো কার্যকর কোম্পানির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরাও সেখানে এমন কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের কথা বলতে পারেননি।

এস আলমের নিয়ন্ত্রণে এসআইবিএল

রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে জবরদস্তি দখলের পরপরই এসআইবিএলের বোর্ড ধীরে ধীরে পুনর্গঠন করা হয় এস আলমের অনুগতদের দিয়ে। চেয়ারম্যান মো. আনোয়ারুল আজিম আরিফ ও ভাইস চেয়ারম্যান বেলাল আহমেদের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবে এস আলমের ছেলে আরশাদুল আলমকে নিয়োগ দেওয়ার মাধ্যমে ব্যাংকের বোর্ডে গ্রুপটির প্রভাব আরও শক্তিশালী হয়।

তবে একটি নিয়োগ বিশেষভাবে নজরে পড়ে—জেবুন্নেসা আকবর। তিনি ইউনিটেক্স সিমেন্টের মালিক না হয়েও প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধি হিসেবে বোর্ডে যোগ দেন। তাকে ব্যাংকের নির্বাহী কমিটিতেও রাখা হয়। বড় ঋণ অনুমোদন, নীতিনির্ধারণ ও দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতাসম্পন্ন একটি শক্তিশালী কমিটি ছিল সেটি।

২০০৯ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআই প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোল্লা ফজলে আকবরের স্ত্রী এই জেবুন্নেসা আকবর। ২০১৮ সালের মে মাসে ব্যাংকটি দখলের কয়েক মাস পরই ফজলে আকবরকে সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি ২০২২ সালের এপ্রিল পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করেন। স্যালারি স্টেটমেন্ট অনুযায়ী, এই সময়ে তিনি বেতন ও সুবিধা বাবদ ২ কোটি টাকার বেশি পেয়েছেন।

যোগাযোগ করা হলে জেবুন্নেসা আকবর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘আমি খুবই অসুস্থ। চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে আছি। দুঃখিত, আমি কথা বলতে পারব না। আর, কোনো ব্যাংক দখলে আমার স্বামীর কোনো ভূমিকা ছিল না। তিনি ২০১১ সালের জুন পর্যন্তই গোয়েন্দা সংস্থায় কাজ করেছেন।’

কীভাবে লাভবান হন এস আলম

চট্টগ্রামের আগ্রাবাদভিত্তিক ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস লিমিটেড ইনফিনিয়া গ্রুপের একটি প্রতিষ্ঠান। এর চেয়ারম্যান এস আলমের ছেলে আহসানুল আলম। এস আলমের ভাতিজা মো. মোস্তাইন বিল্লাহ আদিল প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

এস আলম গ্রুপ এসআইবিএল দখল করার তিন মাসের মধ্যেই মাত্র ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের প্রতিষ্ঠান ইনফিনিয়া স্পিনিং মিলস ব্যাংকটি থেকে ৩৩১ কোটি টাকা ঋণ ও ১২৭ কোটি টাকার এলসি সুবিধা পায়। নথি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বকেয়া দায় ৮১৫ কোটি টাকা খেলাপি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ রয়েছে।

ইনফিনিয়া তো কেবলমাত্র একটি উদাহরণ।

ঋণ ও শেয়ার কেনার নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, ৩৬ জন ব্যক্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা ৪৭টি প্রতিষ্ঠানের একটি নেটওয়ার্ক ২০১৭ সালে ১৪টি কোম্পানির মাধ্যমে এসআইবিএলের ৩৭ দশমিক ১০ শতাংশ শেয়ার কিনে নেয়। এরপর ২০১৮ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে একই পরিচালক ও আন্তঃমালিকানার মাধ্যমে যুক্ত ৩৩টি কোম্পানির মাধ্যমে তারা ৭ হাজার ৬১৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ নেয়।

ঋণ বিতরণের এই ধরণ থেকে বোঝা যায়, কীভাবে এসআইবিএলের বড় অংশের সম্পদ একটি পরিবার ও ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের হাতে চলে গেছে। এটাই প্রমাণ করে, ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সুবিধা পাওয়ার পথ তৈরি করা হয়েছে।

এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রে ছিলেন সাতজন, যারা একইসঙ্গে শেয়ার অধিগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠান ও ঋণগ্রহীতা কোম্পানিগুলোর পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এস আলম, তার দুই ভাই ও স্ত্রী।

চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ বারবার কল কেটে দিয়েছেন। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা ও হোয়াটসঅ্যাপ বার্তায়ও তিনি সাড়া দেননি। ২০২৫ সালের অক্টোবরে দ্য ডেইলি স্টার তার চট্টগ্রামের ১০০/১২২ আব্দুল লতিফ রোডের বাসায় গিয়েও দেখা করার চেষ্টা করে। বাসার গেটে দারোয়ান বলেন, ‘স্যার বাসায় নেই।’ অধ্যাপক আনোয়ারুল আজিম আরিফ (৭৫) চট্টগ্রামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০২৬ সালের ১৮ মার্চ ভোর ৩টা ৪০ মিনিটে মৃত্যুবরণ করেন।

ভাইস চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পাওয়া বেলাল আহমেদ বর্তমানে দেশের বাইরে রয়েছেন বলে ধারণা করা হয়। তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরটি বন্ধ এবং আমাদের ম্যাসেজেরও জবাব দেননি।

এমডি হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী ওসমান আলী টেলিফোনে কেবল বলেন, ‘আমি অসুস্থ।’ তিনি আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

সেদিন যাদের ডিজিএফআইয়ের কচুক্ষেত কার্যালয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তারা বলেন, সেদিনের সবকিছু একজনকে কেন্দ্র করেই পরিচালিত হচ্ছিল, আর তিনি হলেন এস আলম। ২০০৯-২০২৪ সময়কালে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় শেখ হাসিনা ও তার পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের খাতিরে ভীতিকর এক চরিত্র হয়ে উঠেছিলেন এই এস আলম।

তুলে নেওয়া ব্যক্তিরা এস আলমকেই ‘মূল খেলোয়াড়’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তাদের ভাষ্য, গোয়েন্দা কার্যালয়ের ভেতরে বসে পুরো দখল প্রক্রিয়া এস আলম এমনভাবে পরিচালনা করছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন তিনি ওই সংস্থারই একজন শীর্ষ কর্মকর্তা।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ওয়েস্টিনে যাওয়ার আগে এস আলম আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, মিডিয়ার কাছে যেন কিছু না বলি এবং তার সব কাজে যেন সহযোগিতা করি। ওই সময় একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা আমার হাত নিয়ে তার কোমরের পিস্তলের ওপর রাখেন।’

ধারণা করা হয়, সিঙ্গাপুরের নাগরিক এস আলম বর্তমানে সেই দেশেই অবস্থান করছেন। তিনি আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ কল ও ম্যাসেজের জবাব দেননি। তার স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক আইনজীবীরাও ইমেইলে পাঠানো আমাদের প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি।

ব্যাংক দখলের পুরো এই ঘটনাটিকে ‘বিরল’ হিসেবে বর্ণনা করে ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কে মুজেরি ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অনেক ক্ষেত্রে, একটি ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অন্য একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারে। কিন্তু একটি ব্যাংক জোরপূর্বক দখল করার জন্য রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বা গোয়েন্দা সংস্থাকে জড়ানো অত্যন্ত অস্বাভাবিক ও অযৌক্তিক।’

‘এই ঘটনায় জড়িত সবাইকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা উচিত, যাতে ভবিষ্যতে কোনো সরকারি সংস্থা, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী, ব্যক্তি বা ব্যবসায়িক গোষ্ঠী এ ধরনের কাজে জড়াতে না পারে’, যোগ করেন তিনি।

u/mahmud06 — 10 days ago

পানি সংকট মোকাবিলায় কৌশলগত সমাধান, একনেকে উঠছে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প

শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীতে পানির সংকট মোকাবিলা, নদী ব্যবস্থার পুনরুজ্জীবন এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ও পরিবেশ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের লক্ষ্যে বহুল আলোচিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প অনুমোদন দিতে যাচ্ছে সরকার।

পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী ১৩ মে অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হবে এবং অনুমোদন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সভার ১৩টি এজেন্ডাভুক্ত প্রকল্পের মধ্যে এটি ১১ নম্বরে রয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতি, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতি নদী ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট হারে পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা হবে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ি পাম্প হাউজ, জি-কে সেচ প্রকল্প এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রয়োজনীয় পানি সরবরাহ বজায় রাখা হবে।

সেচ সুবিধা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর নিট চাষযোগ্য জমিতে পানির সংস্থান নিশ্চিত করা হবে। এতে কৃষি উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, এ প্রকল্প থেকে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় নতুন সংযোজন হবে।

এছাড়া ব্যারেজের ডেক বা করিডরকে বহুমুখী অবকাঠামোগত সংযোগ হিসেবে ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে সড়ক যোগাযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন এবং গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, কৃষি ও মৎস্য খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিবছর ধান উৎপাদন প্রায় ২৩ লাখ ৯০ হাজার টন এবং মৎস্য উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ৩৪ হাজার টন বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রেও প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বাস্তবায়নকালে প্রায় ৪৭ হাজার ৯৫০ জনের জন্য ১২ কোটি ২৫ লাখ জন-দিন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি সরাসরি ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৯ লাখ ২৭ হাজার স্থায়ী কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।

ভূমি উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সাতটি স্যাটেলাইট শহর প্রতিষ্ঠার ভিত্তি তৈরি এবং প্রায় ৩ হাজার ৪৫০ একর এলাকায় দেড় লাখ পরিবারের জন্য আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন গ্রামীণ টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-489166

u/mahmud06 — 11 days ago

সরকারি উদ্যোগে এই প্রথম হাম, জলাতঙ্ক, ডেঙ্গুর টিকা ও অ্যান্টিভেনম উৎপাদন করবে এসেনশিয়াল ড্রাগস

দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে ডেঙ্গু, জলাতঙ্ক ও হামের টিকা এবং অ্যান্টিভেনম (সাপের কামড়ের প্রতিষেধক) উৎপাদন করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেড। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের টিকার চাহিদা পূরণের পাশাপাশি রপ্তানির সুযোগও তৈরি হবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

এসেনশিয়াল ড্রাগস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটির বিদ্যমান অবকাঠামো ব্যবহার করেই এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এতে আনুমানিক ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকা। প্রকল্পটি চালু হলে বছরে প্রায় ৯০ লাখ থেকে ১ কোটি ভায়াল টিকা উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

বর্তমানে দেশে এই চার ধরনের টিকার মোট বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৫০ লাখ ডোজ। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উদ্বৃত্ত টিকা বিদেশে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে। 

এদিকে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানে আরেকটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে এসেনশিয়াল ড্রাগস। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে সেখানে প্রায় ১০ একর জমির ওপর ভ্যাকসিন, থেরাপিউটিক ও ডায়াগনস্টিক রিসার্চ সেন্টার নির্মাণ করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, ২০৩২ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রে উৎপাদন শুরু করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়াও সংস্থাটির হাতে অ্যান্টিভেনম, জলাতঙ্ক-প্রতিরোধী, জেনেরিক ওষুধ এবং গবেষণা ও ডায়াগনস্টিকসহ মোট চারটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে সরকারের ওষুধ ও টিকার চাহিদা পূরণে বড় ধরনের সক্ষমতা অর্জন করবে এসেনশিয়াল ড্রাগস। 

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-488086

u/mahmud06 — 13 days ago

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প করার উদ্যোগ সরকারের

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থাকে ৩.৫ একরের বেশি অখণ্ড, অব্যবহৃত ও নিষ্কণ্টক জমির পূর্ণাঙ্গ তথ্য জমা দিতে বলা হয়েছে। 

এই উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে তাদের আওতাঅধীন অব্যবহৃত জমির তথ্য পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ'(পিপিপি) কর্তৃপক্ষকে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর অব্যবহৃত জমিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো। 

কর্মকর্তারা জানান, ইতিমধ্যে রেলওয়ে বিভাগ, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ কয়েকটি সংস্থা থেকে জমির তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। 

পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সংস্থার কাছ থেকেও তথ্য  নেওয়া হবে। এরপর এসব জমির কতটুকু নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের জন্য উপযোগী, তা মূল্যায়ন করা হবে।

এদিকে সরকারি জমিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে দেশের প্রথম সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে গতকাল বেজা ও বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) মধ্যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। ঢাকার বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি স্বাক্ষর হয়।

বেজা জানায়, এ প্রকল্পে ব্যাটারি স্টোরেজ সিস্টেমসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্যোগের আওতায় ফেনীর সোনাগাজীতে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বেজার মালিকানাধীন প্রায় ৪১২ একর জমিতে একটি বৃহৎ সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে ১৩০-১৪০ মেগাওয়াট সক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-488061

u/mahmud06 — 14 days ago

বিদ্যুৎ ঘাটতি কমাতে সরকার রাজধানীর প্রতিটি বাসায় সোলার প্যানেল বসানোর নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি করা।

বিদ্যুতের ব্যাকআপ ব্যবস্থা তৈরি করতে সোলার পাওয়ারকে সহজলভ্য করা হবে। আগামী জুন মাসের মধ্যে সরকারি আদেশ জারির মাধ্যমে এ বিষয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হবে।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আগামী পাঁচ বছরে সোলার থেকে ১০ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে চায় সরকার।

বিস্তারিত - https://www.somoynews.tv/news/2026-05-07/7FTvWxG0

u/mahmud06 — 15 days ago

পূর্বে ইয়াবা, হেরোইন, গাঁজা সহ জামাত নেতা কর্মীরা গ্রেপ্তার হলেও বর্তমানে তারা আইস সহ গ্রেপ্তার হচ্ছে। সময়ের সাথে নিজেদেরকে পরিবর্তন করছে জামাত। সর্বদিক থেকে উন্নতির কারণেই কি এমন পরিবর্তন?

u/mahmud06 — 15 days ago

রাজস্ব সংগ্রহ বাড়াতে জেলা পর্যায়ের নগদ অর্থ লেনদেনকারী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল ও ব্যাংকিং চ্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। 

কর্মকর্তারা জানান, চিকিৎসক, আইনজীবী, কর্পোরেট প্রতিষ্ঠান ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মতো পেশাদার ও সেবা প্রদানকারীদের পয়েন্ট অভ সেল (পিওএস) মেশিন ও ব্যাংকিং চ্যানেল ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করা হবে। পাশাপাশি সচেতনতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক নজরদারির মাধ্যমে বাড়ি ভাড়াসহ অন্যান্য দৈনন্দিন লেনদেনকেও ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অফিস ও পাসপোর্ট অফিসের লেনদকেও আনুষ্ঠানিক আর্থিক চ্যানেলের আওতায় আনার জন্য জেলা প্রশাসকরা কাজ করবেন।

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/bangladesh/news-details-485886

u/mahmud06 — 16 days ago

শিক্ষিত দল নিজ কোচিং সেন্টারের অধ্যক্ষ, হোমিওপ্যাথি ডাক্তারের দল থেকে জামাতের আইনজীবির বিজ্ঞানচর্চা থেকে শিখুন কিভাবে এসব আবিষ্কার হয়েছে।

আমি এতগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যত এর কথা চিন্তা করছি এরা কি শিখছে? এদের কি শেখানো হচ্ছে?

u/mahmud06 — 16 days ago

যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির মাধ্যমে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড গতিশীল করতে উত্তরাঞ্চলের বন্ধ থাকা স্থানীয় বিমানবন্দরগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। উত্তরাঞ্চলের অব্যবহৃত এভিয়েশন অবকাঠামো পুনরুজ্জীবিত করার বৃহত্তর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে রয়েছে বগুড়া বিমানবন্দর। এরপরই রয়েছে ঈশ্বরদী, ঠাকুরগাঁও ও লালমনিরহাট বিমানবন্দর।

উত্তরাঞ্চলজুড়ে বর্তমানে উল্লেখযোগ্য শিল্প উন্নয়ন চলছে। সিরাজগঞ্জে যমুনা সেতুর কাছে একটি বড় অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে, অন্যদিকে কুড়িগ্রামে ভুটানের জন্য একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। রাজশাহী, রংপুর, নাটোর, পঞ্চগড়, দিনাজপুর এবং গাইবান্ধায় আরও কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বগুড়া থেকে শুরু করে পরিত্যক্ত বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করা হলে উত্তরাঞ্চলের পূর্ণ অর্থনৈতিক সম্ভাবনা উন্মোচিত হবে। এই অঞ্চলে ইতিমধ্যেই দুটি ইপিজেড রয়েছে এবং আরও কয়েকটি অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিকল্পিত রয়েছে। রংপুর চিনিকলের ৪৫০ একর জমিতে একটি ইপিজেড নির্মিত হবে, যা এক লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

২০০১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঈশ্বরদী ইপিজেড ২০১২ সালে বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পায়, যখন 'ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও' দেশের প্রথম লিড প্ল্যাটিনাম-প্রত্যয়িত গ্রিন ফ্যাক্টরি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। বর্তমানে এই অঞ্চল থেকে ২.২১ বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের পণ্য রপ্তানি হয় এবং এখানে ২১ হাজারের বেশি শ্রমিক কর্মরত আছেন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের মুখপাত্র কামরুল ইসলাম এসব রুটের বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা সম্পর্কে বলেন, "আমরা দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার দাবি জানিয়ে আসছি। ঢাকা-বগুড়া এবং ঢাকা-ঠাকুরগাঁওয়ের মতো রুটগুলোতে ১৭-১৮ আসনের ছোট বিমান চালানো যেতে পারে; এমনকি ১০-১১ জন যাত্রী নিয়েও এসব ফ্লাইট লাভজনক করা সম্ভব।" তিনি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সফল ঈশ্বরদী ইপিজেডের গুরুত্ব বিবেচনায়—ঈশ্বরদী বিমানবন্দরটি-ও দ্রুত চালু করার ওপর জোর দেন।

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/Economy/news-details-482121

u/mahmud06 — 17 days ago

Who is the must needed sign in my squad? I'm F2W+P2W player. Most of the players I sign with my saved coin and I bought coins some time. I collect coin and save them, for example I draw only when I have at least 5,000 coins. Last time I buy coin for Van Dijk which is only 1000 coin. Now I have 4000+ coin and need recommendation which player should I sign next regarding my squad.

u/mahmud06 — 17 days ago

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করার লক্ষ্যে, ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডকে দ্বিতীয় ইউনিট (ইআরএল-২) সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের জন্য ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের  (আইডিবি) ১০০ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থায়নের প্রস্তাবের শর্ত নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু করেছে বাংলাদেশ। এটি বর্তমানে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্প।

ফরাসি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টেকনিপ-এর অধীনে ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ইস্টার্ন রিফাইনারি প্রথমবারের মতো ২০১০ সালে দ্বিতীয় ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা করে। এই উদ্দেশ্যে ২০১৩ সালে তৎকালীন সরকার ১৩,০০০ কোটি টাকার অনুমোদন দিলেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। ২০২২ সালে বিপিসি নিজস্ব অর্থায়নে কাজটি এগিয়ে নিতে চাইলে ব্যয় ২৩,০০০ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়, কিন্তু তবুও কাজ শুরু করা হয়নি।

পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার পুনরায় পরিকল্পনাটি পুনরুজ্জীবিত করে, যার ব্যয় তখন ৩৬ হাজার ৪১০ কোটি টাকা প্রাক্কলন করা হয়েছিল। বিদেশি ঋণ নিশ্চিত করতে না পারায় প্রকল্পটি থমকে যায়।

ইস্টার্ন রিফাইনারি বর্তমানে বাংলাদেশের জ্বালানি তেলের চাহিদার মাত্র ২০ শতাংশ মেটাতে সক্ষম, আর বাকি অংশ আমদানি করতে হয়। ইআরএল-২ ইউনিটটি চালু হলে এখানে ইউরো-৫ মানের পেট্রল ও ডিজেল উৎপাদিত হবে। একই সঙ্গে বর্তমান রিফাইনারির ডিজেল, মোটর স্পিরিট এবং অকটেনের মানকেও ইউরো-৫ পর্যায়ে উন্নীত করা হবে।

বিস্তারিত - https://www.tbsnews.net/bangla/Economy/news-details-485876

u/mahmud06 — 18 days ago

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) উর্দু বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ সালাম। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেছিলেন। দুবার স্বর্ণপদক বিজয়ীও হয়েছিলেন। রাবি কর্তৃপক্ষ তাঁকে নিয়োগ দেয়নি। নিয়োগ পান মেধা তালিকার প্রথম, তৃতীয় ও চতুর্থজন।

এমন অনিয়ম দেখে নিয়োগ বোর্ডের বিশেষজ্ঞ সদস্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. ইস্রাফিল চূড়ান্ত ফলের নথিতে সই করেননি। তবু নিয়োগটি বৈধ করেছেন সদ্য সাবেক উপাচার্য সালেহ্‌ হাসান নকীব। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।

শুধু এই একটি নিয়োগ নয়, সালেহ্‌ হাসান নকীব যে ৫৫৭ দিন উপাচার্য ছিলেন, সেই সময়ে ১৫টি সিন্ডিকেট বৈঠকের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছেন অন্তত ৪৭৮ জনকে। এর অধিকাংশ নিয়ে নানা ধরনের অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও জামায়াতীকরণের অভিযোগ উঠেছে। 

সালেহ্‌ হাসান নকীবের সময়ে নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে ১৫৪ জন শিক্ষক, ছয় চিকিৎসক, তিন কর্মকর্তা এবং তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন ৩১৫ জন। অতীতে এত অল্প সময় দায়িত্বে থেকে কোনো উপাচার্য এত বেশি জনবল নিয়োগ দিতে পারেননি।

সদ্য সাবেক উপাচার্যের প্রায় দেড় বছরের মেয়াদে অন্যতম আলোচিত ঘটনা এইচএসসি পাস দুজনকে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা পদে নিয়োগ দেওয়া। পছন্দের লোকের সমন্বয়ে নিয়োগ বোর্ড তৈরি করে এ নিয়োগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া নিজের শ্বশুরকে তিনি ইমেরিটাস অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ দেন, যা নিয়েও তীব্র সমালোচনা রয়েছে। ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিম্যাল সায়েন্স বিভাগে একটি শূন্য পদের বিপরীতে ১০ জন শিক্ষক নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেন। নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বদল এনে কৌশলে লিখিত পরীক্ষা চালু করেন অধ্যাপক নকীব।

তিনি যাদের নিয়োগ দিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই জামায়াতপন্থি।

জানতে চাইলে সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক সালেহ্‌ হাসান নকীব দাবি করেন, নিয়োগে কোনো অনিয়ম হয়নি। কোথাও কোনো দুর্নীতি ও সুপারিশকে প্রশ্রয় দিইনি। অভিযোগ আসতেই পারে, এগুলো মিথ্যা কথা। শ্বশুরকে ইমেরিটাস অধ্যাপক পদে নিয়োগ দেওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

জামাত সারাদিন সৎ লোকের শাসন চাই বলে স্লোগান ধরে এই কি তাদের সৎ লোকের শাসনের নমুনা?

আরো বিস্তারিত - https://samakal.com/whole-country/article/350092

https://www.prothomalo.com/bangladesh/district/6puga6tnle

u/mahmud06 — 19 days ago